Tuesday, 20 September 2022

আমার শৈশব (ধারাবাহিক) পর্ব ১ রামকৃষ্ণ মিশন রোড

 


আমার শৈশব

(ধারাবাহিক)

পর্ব ১

রামকৃষ্ণ মিশন রোড

 

আমাদের ছোটবেলা এত মজার ছিল যে কি বলব। ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশন রোড এ বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক এ স্টাফ কোয়াটার এ তখন মাত্র দুটো বিল্ডিং। মাত্র চব্বিশ টা পরিবার। সবাই মিলে মিশে থাকা।

স্কুল ও খুব কাছে। হেঁটে যেতাম দল বেঁধে। সেকথা পরে হবে।

প্রকাণ্ড বড় খেলার মাঠ ছিল। এখন জানিনা পুরো মাঠ টা আছে কি না! না কি কংক্রিট খেয়ে নিয়েছে!

কোনও খেলা বাদ যেত না। বিকেল চারটা বাজলে এক মুহূর্ত ও ঘরে থাকার কোন কথা নেই... সোজা মাঠে! আমাদের বড় দিদি ছিলেন বেবি আপা। রুটিন বানিয়ে রেখেছিলেন খেলার - পুরো এক মাসের - যা তে কোনও খেলা বাদ না পরে!

কি কি ছিলনা তাতে! পুতুল খেলা, রান্না-বাটি, ফুটবল, ক্রিকেট, কবাডি, বেস বল, গোল্লা ছুট, বুড়ি বাসন্তী, আইস-বাইস, সাত চারা, এক্কা- দোক্কা, ছু-কিতকিত আরও কত কি।

হটাত মনে হল বনভোজন করব। মাঠের মাঝে এক বড় তাল গাছ। সবাই বাড়ি থেকে চাল আর আলু আর বোধ হয় দু পয়সা চেয়ে নিতাম মায়েদের কাছ থেকে। বড় দাদা আর দিদিরা মিলে ইট দিয়ে উনুন পেতে রান্না চাপাত। আমরা শুকনো ডাল আর পাতা কুড়িয়ে আনতাম। রান্না হয়ে গেলে সব এক সাথে বসে ওই তাল গাছের নিচে বসে খাওয়া।

তাল গাছ টা ছিল মাঠে একদম মাঝখানে। গাছটার এক পাশে একটা মড়া নদীর খাদ ছিল। বর্ষার জল জমে আমাদের চান করার মত জল ভরে উঠত তাতে। স্কুল থেকে ফিরে এক দৌড়ে সেই জলায় নেমে হুটোপুটি সেরে বাড়ি ফিরে মায়ের হাতে মার! রোজ মার খাওয়া আর রোজ জলায় চান।

একদিন আমি আর ভাই গামছা নিয়ে ছোট ছোট মাছ ধরে মায়ের কাছে মহা উৎসাহে নিয়ে এলাম! মা দেখে তো হেসেই আকুল! আসলে সে গুলো ছিল ব্যাঙ্গাচি!

এই যে সবাই এক সাথে থাকা। এই যে এত ভালবাসা! এই টান! কোথায় যে হারিয়ে গেলো।

 

ছবি পরিচিতিঃ ছবিটি বাবার তোলা আর বাবার নিজের তৈরী করা ডার্ক রুম ও enlarager এ ডেভেলপ করা। এই নিয়েও লিখবো।

(ক্রমশ)

No comments:

Post a Comment