উপহার
গত কয়েকদিন যাবত একটা ঘোরের মধ্যে
চলেছে। ক্যামন যেন ওলট পালট চারিধার।
খবরের কাগজে, টিভি চ্যানেলে
চোখ রাখা দায়। খালি শিউরে ওঠা খবর! আমরা কেউ ভাল নেই! ভাল থাকা যায়না এভাবে!
তবুও কিছু কিছু খবর কিছুটা হলেও
আশা জাগায়। গতকাল দেখলাম,
ক্যান্সারের ওষুধ আবিস্কার করে ফেলেছেন আমাদের বৈজ্ঞানিকরা - যার
জন্য এত বছর আমরা প্রতীক্ষা করেছি! অথচ এই খবরটাই তো শিরোনামে আসা উচিৎ! দায় কি
শুধু সাধারণ মানুষের?
পৃথিবীতে আবার হোক সুন্দরের
আরাধনা! আমরা মানুষ হই ,
সংবেদনশীল হই। আমার চারিপাশ ভাল না থাকলে আমিও ভাল থাকতে পারি না।
পুরানো যুগে ফেরার কথা বলছি না...
নতুনদের সাথে নিয়ে পথ চলি। একা নয় একসাথে থাকার বীজটা আবার রোপিত হোক।
ঈশ্বর প্রতিটাদিন সুন্দর করে
আমাদের কাছে পাঠান। সেটা আমরাই নষ্ট করি।
আবার শুরু করি নতুন করে...
সহমর্মিতা, সহনশীলতা, ভালবাসা আবার ফিরিয়ে আনি...
আজ সকালে একটা সুন্দর উপহার
পেলাম। একটা পাখি আমাদের ব্যালকোনি বাগানের টবে বাসা বানিয়েছিল। কিছুদিন বাইরে
ছিলাম বলে যায়গাটা নির্জন হয়ে যায়। তখনই বাসা বানিয়ে নেয়। ফিরে এসে দেখি ডিম
পেরেছে এক জোড়া। অপেক্ষায় ছিলাম ছানাদের দেখার। আজ সকালে দেখি ডিম থেকে দুটো
ফুটফুটে ছানা! পাখি মা বাচ্চাদের কি সুন্দর খাইয়ে দিচ্ছে!
আমাদের শিশুদের আমরা কেন রক্ষা
করতে পারি না! আপনার বাচ্চাকে যতদিন আমি নিজের সন্তানের মত না ভাবতে পারব ততদিন এই
ঘুণপোকা মরবে না!
পাখির ভিডিও টি শেয়ার করলাম।
পরিবার
পাখির ছানাদের রোজ সকালে একবার
দেখে অফিস যাই। গতকাল দেখি মা পাখি নেই। খাবার খুঁজতে গেছে বোধহয়। কিন্তু ওরা বলল
যে, মা
পাখি নাকি গতকাল থেকে আসেনি। এমনিতে মা পাখি বেরুলে বাবা পাখি এসে আওয়াজ করে ডেকে
ছানাদের অভয় দেয়। প্রকৃতির কি সুন্দর ব্যবস্থা! এই পাখি পরিবারকে এত কাছ থেকে না
দেখলে অজানাই থেকে যেত এত কিছু। সন্তানের জন্য ভালবাসা আর যত্ন মা বাবার মত আর কেউ
নিতে পারে না।
গতকাল মা পাখিকে দেখতে না পেয়ে মন
খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ছানা গুলো না খেতে পেয়ে মরে যাবে যে। শেষে আমার সাহায্যকারিনি
ভাত পেষ্ট করে ওদের বাসার কাছে রেখে দিলো। বাসা বলতে তো সেই রান্না ঘরের বারান্দার
টব। ভাগ্যিস টব, তাইতো সব দেখতে পাচ্ছি। প্ৰথমে খেলো না। পরে খেয়ে নিয়ে দেখলাম ঠোঁট চাটছে।
আজও তাই। মা পাখির দেখা নেই। ভাত দেয়া হল। বড় ছানাটি খেলো , ছোটটি
নয়।
আমাদের তো কৌতূহলের শেষ নেই।
বারবার দেখছি যে, এই বুঝি মা পাখি এল। কর্তা বেরোন নি আজ। দুপুরে ফোনে জানালেন যে বড় ছানাটি
ডানা মেলে উড়ে গেছে কখন যেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখি ছোট একা ঘুমাচ্ছে।
মন খারাপ। ছোট পাখিটি তবে আর
বাঁচলো না।
রাত আট টা নাগাদ গিয়ে দেখি মা
পাখি আবার ফিরে এসেছে। একটা স্বস্তি পেলাম তবু। দেখা যাক কাল সকালে আবার কি দেখব।
ছোট পাখিটা উড়তে শিখে মিলিয়ে যাবে
মুক্ত আকাশে। যতদিন না পারছে ততদিন কাকের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে যে।
সমাপ্তি
বাসা বানানো, ডিম পারা,
ডিমে তা দেওয়া, ডিম ফেটে ছানা বেরুনো, ছানাদের খাওয়ানো, ছানাদের চোখের দৃষ্টি ঠিক হওয়া,
পালাক্রমে বাবা পাখি আর মা পাখির ছানাদের দেখভাল করা। স্পর্শ এবং মৃদু ডাকের মাধ্যমে ভাবের আদান
প্রদান - এসব দেখেছি একের পর এক । অনুভব
করেছি প্রতি মুহূর্তে এই পাখি পরিবারের ভালবাসা আর দায়বদ্ধতার মাধুর্য।
বড় ছানাটি আগেই উড়তে শিখেছিল। তবে
একদম পালিয়ে যায়নি। প্রতিদিন দুপুরে এসে মা বাবার সাথে ছোট ছানাটিকে দেখে যেত।
মা গতকাল ছানাটাকে উড়তে শেখাবার ট্রেনিং দিচ্ছিল। সে এক
অপরূপ দৃশ্য। ছানার মুখের কাছে মা পাখি মুখ দিয়ে সঙ্কেত দিচ্ছিল আর ডানা
ঝাপ্টাচ্ছিল। ওমা! একটু পরেই দেখি ছানা মায়ের সাথে সাথে ডানা ঝাপ্টাচ্ছে। তবে উড়তে
পারেনি। কিছুক্ষন পরে দেখলাম মা নেই।
কিন্তু ছানাটি মাঝে মাঝেই প্র্যাকটিস করে চলেছে।
রোববার বলে বাড়িতে ছিলাম গতকাল।
তাই মাঝে মাঝেই বারান্দায় গিয়ে দেখে এসেছি। সন্ধ্যা বেলায় মা পাখি আবার ছানার কাছে
ফিরে এসেছিল। রাতের দিকেও দেখেছি।
আজ সকালে বারান্দায় গিয়ে
দেখি ওরা কেউ নেই। বাসা ফাঁকা। গতকালের
প্র্যাকটিস ছোট ছানাটিকে উড়তে সাহায্য করেছে। নিশ্চয় মা পাখি গতকাল ছোটটিকে তা ই
শেখাচ্ছিল যে উড়তে শেখা মাত্রই এখান থেকে চলে যেতে হবে মুক্ত আকাশে।




মানুষের অনেক কিছু শিখতে হবে। পিঁপড়ের কাছ থেকে ডিসিপ্লিন,ফেলো ফিলিংস, কুকুরের বিশ্বস্ততা,তাছাড়া পশুপাখির দাম্পত্য সততা,শিশু পালন ও দায়িত্ববোধ।
ReplyDeleteমানুষের মত তাদের কাছে সন্তান অবাঞ্ছিত হয়না,জঞ্জালে ফেলে যায়না!
তোমাকেও ভালবাসা জানাই ওদের নিশ্চিন্তে থাকতে দেবার জন্য।
আপনার প্রতিটি কথাই মুল্যবান। যতদিন আমরা মানুষ ছিলাম ততদিন আমাদের জীবনের সমস্যাগুলো দলগত সমস্যা ছিল। ক্রমশ মানুষ আর রোবটের সংমিশ্রণে এক অদ্ভুত প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়ে সুস্থ চিন্তা আর আত্ম সমালোচনা ত্যাগ করেছি। তাই পারমানবিক পরিবারের সমস্যা পারমাণবিক বোমার মত বিস্ফোরিত হয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলেছে। তাই চটজলদি সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলে নিজেদের জীবন নিজেরাই দুর্বিষহ করে তুলেছি।
Deleteভাল থাকবেন। শুভেচ্ছা রইল।
মানুষের অনেক কিছু শিখতে হবে। পিঁপড়ের কাছ থেকে ডিসিপ্লিন,ফেলো ফিলিংস, কুকুরের বিশ্বস্ততা,তাছাড়া পশুপাখির দাম্পত্য সততা,শিশু পালন ও দায়িত্ববোধ।
ReplyDeleteমানুষের মত তাদের কাছে সন্তান অবাঞ্ছিত হয়না,জঞ্জালে ফেলে যায়না!
তোমাকেও ভালবাসা জানাই ওদের নিশ্চিন্তে থাকতে দেবার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ
Delete