Tuesday, 19 December 2017

উৎকণ্ঠা ঃ স্বাতী বিশ্বাস

উৎকণ্ঠা

                                           ছবি সৌজন্য ঃ  অন্তরজাল
মাধুরীর বাড়িতে আর ভাল
লাগে না। মেয়েটা বাইরে – এই পোড়ার জায়গায় একটা কাজ জুটল না! কাজের জন্য  মাথা খারাপ হবার জোগাড়! কাজ ছাড়া   এই 
বয়সে কি করে? চুরি ডাকাতি নয় তো অসৎ পথ। কোনটাই তো হবে না! তাই ডিপ্রেশনে
ভুগে মাথা খারাপ হব হব। এমনি সময় ক্যাম্পসিং এর রেজাল্ট বেরুল। কাজ জুটল কিন্তু
বাইরে। না যেতে দেয়া ছাড়া আর গতি নেই।

সে না হয় হল! একা মেয়ে
বিদেশ বিভুয়ে থাকে কি করে! আরে অসুখ – বিসুখ আছে, একা বাড়িতে কথা  বলার দ্বিতীয় প্রাণীটি পর্যন্ত নেই! কাছে থাকলে
কুটো নাড়তে দেয়নি অথচ ওখানে সব কাজই নিজেকে করতে হয় বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার, কাপড়
কাচা, রান্না ... বাইরের খাবার আর কত খাওয়া যায়!

সব সামলে অফিস! ওইটুকু
মেয়ে – যাকে তুলোয় মুড়ে রাখা তাকে কত কি না করতে হচ্ছে। বাইরেরও কত কাজ! লাইটের
বিল, কেবলের বিল, বাজারহাট আর কত কি! মাধুরী চোখের জল ফেলে আর ঠাকুরকে ডাকে। কর্তা
কে বলে লাভ নেই – বলে “তোমার একটু বেশী বেশী”! সাথে সাথে অমুকের মেয়ে তমুকের ছেলের
উদাহরণ! ভাল্লাগেনা আর!

সারাদিন হা পিত্যেশ করে
বসে থাকে – কখন মেয়েটার সাথে একটু কথা বলবে! নতুন ছেলেমেয়েগুলোকে নিংড়ে নেয় অফিস।
তাই রাতেই যা কথা হয় দু চারটে! অত ক্লান্ত থাকে – তার ওপর ঘরের কাজ কর্মগুলোও
সারতে হয়! মাঝে মাঝে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে মেয়ের – আস্বস্ত হয়!  হোয়াটসঅ্যাপসে দুএকটা মেসেজ – এই নিয়েই চলছে!
তবুও রাতে যতক্ষণ না মেয়ের সাথে কথা বলতে না পারে ততক্ষণ স্বস্তি পায়না!

এইতো সেদিন কিছুতেই ফোনে
যোগাযোগ করা গেলনা... কর্তা বললেন “অত ক্লান্ত হয়ে এসেছে - হয় চার্জ নেই নয় তো
ভুলে গেছে – এমন তো হতেই পারে – তোমার হয় না?”  ব্যস এক কথায় দু কথায় লেগে গেল কর্তা গিন্নীতে।
রাতের খাওয়া মাথায় উঠল! যত রাজ্যির আশঙ্কা মাথায় ঘুরতে লাগল! মুহূর্তগুলো যেন
একেকটা বছর মনে হতে লাগলো।   

“সব আমার কপালের দোষ”! কি
করবে কোথায় যাবে! ভাবতে ভাবতেই ফোন বাজে – ধরা গলায় মেয়ে বলে “আজ একটু তাড়াতাড়ি
বাড়ি ফিরেছি। ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এখন ভাত বসাবো”। ঘড়িতে তখন রাত
দুটো।

স্বাতী বিশ্বাস *
শুক্রবার, ১৯.১২.১৪ * কোলকাতা

No comments:

Post a Comment