Wednesday, 2 November 2016

ভূত চতুর্দশী :স্বাতী বিশ্বাস


কালিপুজো/দীপাবলি/দিওয়ালির একদিন আগে সাধারনত ভূত চতুর্দশী পালন করা হয়।দীপ জ্বালানো হতো রাতের অন্ধকার দূর করতে |

এই দিনে বাঙালিরা বাড়ির চোদ্দোটা এঁদো কোণায় চোদ্দোটা প্রদীপ জ্বালিয়ে কালো মুছিয়ে আলোকিত করে তোলেন বাড়িটাকে। কথায় আছে যে এমনটা করলে ভূতপ্রেত পরিবার


আর স্বজনদের কাছ থেকে দূরে সরে থাকবে; এমনটাও লোককথায় শোনা যায় যে এই প্রদীপসজ্জার মাধ্যমে পরিবারের পিতৃপুরুষদের অনুষ্ঠানে পদার্পণ করার জন্য নিমন্ত্রণ

পাঠানো হয়, যাতে তাঁরা মায়ের বাৎসরিক আগমনে উপস্থিত হয়ে সবাইকে শুভাশীষ দিয়ে নিজেরা মায়ের আশীর্ব্বাদে মোক্ষ লাভ করবেন।


আগে বাঙালি বাড়িতে দুটো রীতি খুব মানা হতো | ভূত চতুর্দশী রাতে জ্বালানো হতো ১৪ প্রদীপ | তার আগে এদিন দুপুরে ভাতের সঙ্গে থাকতই ১৪ রকম শাক ভাজা |



আর ১৪ শাক ভক্ষণের বিষয়টি স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয় | এই সময়ে মরসুম পাল্টায় | বাতাসে জায়গা করে নেয় হিমেল পরশ | তাই শরীর ভাল রাখতে ১৪ রকম শাক খাওয়ার বিধি |
 এই  দিনে চৌদ্দ শাক, চৌদ্দ পিদিম জ্বালিয়ে চৌদ্দ পুরুষের অতৃপ্ত আত্মাদের তুষ্ট করে, অশুভ শক্তিকে দূর করার রেওয়াজ।



আসুন দেখে নিই এই শাকগুলো ( বা গছের পাতা ) ঠিক কী কী —-

১| ওল
২| কেঁউ
৩| বেতো
 ৪| সর্ষে
৫| কালকাসুন্দে
৬| নিম
 ৭| জয়ন্তী
৮| শাঞ্চে
৯| হিলঞ্চ
১০| পলতা
১১| শৌলফ
১২| গুলঞ্চ
 ১৩| ভাঁটপাতা
 ১৪| শুষণীশাক

পঞ্জিকা মতে‚ এগুলোই কিন্তু সেই চোদ্দ শাক‚ যেগুলো বিধিমতো খেতে হয় | এখনকার প্রজন্ম এদের দেখা তো দূর অস্ত‚ কোনওদিন নামই শোনেনি বেশিরভাগের |

আয়ুর্বেদ এবং কবিরাজি শাস্ত্রে এইসব শাকের গুণ অসীম | যদিও বাঙালি এখন বেশি ভক্ত ধাবার সর্ষো দা শাগের আর পালক পনীরের | তাই এই চোদ্দ শাকের নাম আর খাওয়ার রীতি থেকে যায় আগের প্রজন্মের ঝাপসা হয়ে আসা স্মৃতিতেই |

No comments:

Post a Comment