আমাদের কথা
প্রিয় বন্ধুরা,
নববর্ষের চিঠি
– তন্ময় গুপ্ত [শব্দ সংখ্যা ৭২]
নববর্ষ
এলেই তোমার কথা আরও বেশি
মনে পড়ে। সেই নির্ভেজাল
হাসি, অকারণ আনন্দ আর ছোট ছোট
স্বপ্নগুলো যেন কোথায় হারিয়ে
গেছে সময়ের স্রোতে। আজও ইচ্ছে করে
ফিরে যেতে—তোমার সেই নির্ভার দিনগুলোতে।
তুমি ছিলে আমার সবচেয়ে
নির্মল সময়, যেখানে দুঃখও
ছিল খেলনার মতো হালকা।
নতুন
বছরের এই শুরুতে শুধু
একটাই প্রার্থনা—তোমার সরলতা আর আনন্দ যেন
আমার ভেতরে কোথাও বেঁচে থাকে।
অশেষ
ভালোবাসায়,
তোমার
বড় হয়ে যাওয়া আমি
নববর্ষের চিঠি – তন্ময় গুপ্ত [শব্দ সংখ্যা ৭২]
নববর্ষের চিঠি – সাহানা নন্দন [শব্দ সংখ্যা ১০০]
সেরা চিঠি
প্রতি,
লাল-পলাশের
দেশ,
প্রযত্নেঃ নতুন
বছর।
প্রিয় পলাশ,
তোমাকে ভাবলেই
অঙ্গে রোমাঞ্চ জাগে! তোমার ফুলে-ফুলে ভরে ওঠা নবরাগের রূপ চোখ ভরিয়ে দেয়! ভেসে আসে
সুদূরের ওই বাঁশরিয়ার মন-কেমনের সুর! মনের আঙিনায় বার্তা আসে, নতুন বছর আসছে! পুজো,
হালখাতা, এক টাকায় সিঁদুর-ছাপ, মিষ্টি, নতুন পাঁজি..... নতুন কাপড় পরে ওই যে
ছোট্ট ছেলেমেয়েদের দল! ওরা প্রভাতফেরীতে গাইছে..."মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা"..সন্ধ্যায়
মহুয়ার সুবাসে মন মাতাল হয়! হঠাৎ আমের বনে দোলা লাগে, বৈশাখীর মত্ত ঝড়ে এলোমেলো
রূপে নতুন বছরটাকে বড্ড উন্মত্ত মনে হয়, ইচ্ছে করে নতুন করে প্রেমে পড়ি!
হলুদ খামে স্মৃতির
সুগন্ধী ভরে পাঠিয়ে দিলাম তোমার ঠিকানায়, উত্তর লিখো।
ইতি,
প্রবাসীর কলম।
নববর্ষের চিঠি
– সাহানা নন্দন [শব্দ সংখ্যা ১০১]
নববর্ষের চিঠি – দীপ্তি নন্দন। [শব্দ সংখ্যা ৯৫]
প্রতি --নীলমাধব
বোস।
ভবানীপুর
কলকাতা -২৫
পূজনীয় বাবা,
দু'দিন আগেই
আরো একটা নতুন বছর এলো। আজ এই অতি প্রবীণ বয়সেও
আমি তোমার সঙ্গে কাটানো সেই দিনগুলোর কথা একটুও ভুলিনি বাবা !এই সময়ে বাবা, আমার মনে
পড়ে তোমাকে আর প্রতিটা মুহূর্তে আমি তোমার অভাব বোধ করি।
মনে পড়ে তোমার
হাত ধরে চড়কের মেলায় যাওয়া আর গরম জিলিপি আর পাঁপড় ভাজা খেয়ে, টুকি টাকি গৃহস্থালীর
জিনিস কিনে বাজার থেকে গণেশ মূর্তি কিনে, পুজোর বাজার করে বাড়ি ফেরা।
পরদিন গণেশ
পুজোর পরে হালখাতায় সিঁদুর মাখানো রূপোর টাকার
ছাপ দিয়ে, বেলকাঠি দিয়ে ওঁ গণেশায় নমঃ লেখার পরে হালখাতার নিমন্ত্রণে যাওয়া, কিছুই
ভুলিনি।
ইতি -
দীপিকা।
শব্দ সংখ্যা --১০০.
কলমে --
দীপ্তি নন্দন।
গরফা, যাদবপুর।
কলকাতা --৭৫
৯০০৭১৮০৮৭০
নববর্ষের চিঠি
– দীপ্তি নন্দন। [শব্দ সংখ্যা ৯৫]
নববর্ষের চিঠি – সুদীপ্তা দাস ব্যানার্জি [শব্দ সংখ্যা ৯৭]
প্রিয় মহুয়া,
নববর্ষের
প্রাণভরা ভালবাসা জানাই । চিঠি
পেয়ে চমকে গেলি তো,এ আবার কোন পাগলামো?
মাধ্যমিকের
পর দুজনের আলাদা
কলেজ আর চিঠি লেখার
শুরু ।
অপেক্ষায় থাকতাম, কবে তোর চিঠি
আসবে ,একটু খবর পাব।
প্রথমে এল টেলিফোন, চিঠির সংখ্যা কমতে থাকল, মোবাইল
আসার পর একদম বন্ধ।
আজ আবার
আগের মতোই তোকে চিঠি
লিখতে ইচ্ছে হল। টাইম
মেশিন তো নেই, এভাবেই
যদি ছোটবেলার সোনালী
দিনগুলোতে কিছুক্ষণের জন্য ফিরে যেতে
পারি। মনে আছে , নববর্ষের দিনে নতুন জামা
পরে দোকানে দোকানে হালখাতার কথা ?ক্যালেন্ডার?মিষ্টির
প্যাকেট? কি অনাবিল আনন্দ।
চিঠির মতো সে সব
কিছুই আজ অতীত।
ভালো
থাকিস । উত্তর
দিবি।
ইতি
সুদীপ্তা।
(97)
নববর্ষের চিঠি
– সুদীপ্তা দাস ব্যানার্জি [শব্দ সংখ্যা ৯৭]
নববর্ষের চিঠি
– ডঃ সুদীপ্তা ঘোষ [শব্দ সংখ্যা
১০৪]
সম্মানীয়
সুধীবৃন্দ,
প্রথমেই
সকলকে নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।
আপনাদের
সকলের পরিবারের সুস্বাস্থ্য সুখ-শান্তি সমৃদ্ধি
ও সর্বাঙ্গীণ উন্নতি কামনা করি।
এই অস্থির বিশ্ব
যেন শান্তি ও সুস্থিতির পরিবেশ
পায় এই প্রার্থনা করি।
প্রসঙ্গত বলি বহু প্রিয়জন
আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন কালের
নিয়মে এতো অবশ্যম্ভাবী। কেউ
এটা প্রতিরোধ করতে পারবেনা তেমনি
অপরদিকে
অনেক নতুন প্রাণের
স্পন্দন হয়েছে। পুরনো নতুন নিয়ে সুন্দর
ভাবে পৃথিবী এগিয়ে চলুক এটাই কাম্য
নববর্ষে নবহর্ষে অতিবাহিত হোক সময়।
পরিশেষে
বলি চিঠি লেখার এই
যে সুযোগ তার সদ্ব্যবহার না
করে পারলাম না কারণ মুঠোফোনও
প্রবল কর্মব্যস্ততায় চিঠি আদান-প্রদান
এখন প্রায় বিলুপ্ত। যাই হোক সবার
কুশল চেয়ে আজকে শেষ করলাম
ইতি
সুদীপ্তা
ঘোষ
নববর্ষের চিঠি
– সুদীপ্তা ঘোষ [শব্দ সংখ্যা
১০৪]
নববর্ষের চিঠি – সারা খানম [শব্দ সংখ্যা ১০৪]
প্রিয়জন,
নতুন
বছরের প্রথম প্রহরে তোমার জন্য রইলো আমার
হৃদয়ের গভীর থেকে শুভেচ্ছা
ও ভালোবাসা। পুরোনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট
আর না-পাওয়ার গল্পগুলো
পেছনে ফেলে আমরা যেন
নতুন করে শুরু করতে
পারি—এই কামনাই করি।
নতুন
বছর যেন তোমার জীবনে
নিয়ে আসে অফুরন্ত সুখ,
শান্তি আর সাফল্য। প্রতিটি
সকাল হোক নতুন আশার,
প্রতিটি দিন হোক আনন্দের,
আর প্রতিটি রাত ভরে উঠুক
শান্তির ঘুমে। জীবনের পথচলায় যত বাধাই আসুক
না কেন, তুমি যেন
সবকিছু জয় করে এগিয়ে
যেতে পারো।
তোমার
হাসি যেন সবসময় অটুট
থাকে, আর তোমার স্বপ্নগুলো
একে একে বাস্তবে রূপ
নেয়—এই কামনায় নতুন
বছরকে স্বাগত জানাই।
শুভ
নববর্ষ!
ভালোবাসা
ও শুভেচ্ছায়,
তোমারই
নববর্ষের চিঠি
– সারা খানম [শব্দ সংখ্যা ১০৪]
নববর্ষের চিঠি – অসিত কুমার পাল [শব্দ সংখ্যা ১০৫]
---: ওঁ :--
তাং-১৬/০৪/২৬
শ্রদ্ধাভাজনীয়া
স্বাতীদি,
প্রথমেই জানাই শুভ নববর্ষ-১৪৩৩
বঙ্গাব্দের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
বাংলার সংস্কৃতির
আকাশে শত সহস্র নক্ষত্ররাজির মাঝে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র "স্বাতীর গানমঞ্চ"-এর
আবির্ভাব চমকপ্রদ। করোনাকালের মতই ফেলে আসা বিগত বৎসরেও জারি থাকল তার কর্মযজ্ঞ। পা
দিল ষষ্ঠ বর্ষে।
আবৃত্তি-নৃত্য-সঙ্গীতের
মুখবই লাইভ, স্ট্রিম ইয়ার্ডেও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, সেইসঙ্গে অন্তর্জালের গণ্ডী ছাড়িয়ে
কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মঞ্চানুষ্ঠান, কাব্যচর্চা, কখনও মিলনমেলা সব মিলিয়ে আমাদের শিল্পীজীবন
সার্থক।সাথে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক থিম, ইউটিউব
চ্যানেলের অনুষ্ঠান। কত কী! সেইজন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা-ধন্যবাদ জানাই আপনাকে ও আপনার
পরিচালক মণ্ডলীর সকলকে।
নববর্ষের এই
পুণ্য প্রভাতে জয়গান গাই "স্বাতীর গানমঞ্চ"-এর। এই জয়পতাকা চিরউড্ডীন রাখার
শপথ নিলাম।
ভাল থাকবেন সবাই।
নমস্কারান্তে
ইতি-----
মহেশতলা. আপনার গুণমুগ্ধ
কলকাতা অসিত পাল দাদা
নববর্ষের চিঠি
– অসিত কুমার পাল [শব্দ সংখ্যা ১০৫]
নববর্ষের চিঠি
– সুচিত্রা গুড়িয়া [শব্দ
সংখ্যা ১০৬]
শ্রীচরণেষু
মা ও বাবা
তোমরা আমার নববর্ষের প্রণাম নিও। তোমরা কেমন
আছো? অনেক দিন হল তোমরা আমাকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে গিয়েছো। সেখানে তোমরা দুজনেই ভালো
আছো তো? সবসময়ই তোমাদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের কথা মনে পড়ে। আজও মনে পড়ে তোমাদের
সঙ্গে কাটানো প্রতিটি নববর্ষ। নববর্ষের সকালে
স্নান করে নতুন জামা পড়ে ঠাকুরকে প্রণাম করে,তোমাদের প্রণাম করে দিন শুরু করতাম। সন্ধ্যায় বাবার হাত ধরে হালখাতা করে মিষ্টির প্যাকেট ও নতুন
বছরের ক্যালেন্ডার হাতে বাড়ি ফিরে আসা সমস্ত কথা এখনো মনে পড়ে। সকালের জলখাবার দিয়ে
শুরু আর সন্ধ্যায় হালখাতার মিষ্টি দিয়ে শেষ হতো নববর্ষ। তোমরা ভালো থেকো। আমার প্রণাম
নিও 🙏। আশীর্বাদ দিও।
ইতি
তোমাদের স্নেহের
গুড়িয়া
নববর্ষের চিঠি
– সুচিত্রা গুড়িয়া [শব্দ
সংখ্যা ১০৬]
নববর্ষের চিঠি
– কেয়া চক্রবর্তী
[শব্দ সংখ্যা ১১১]
শ্রীচরণেষু
বাবা-মা,
নববর্ষের প্রণাম
নিও
(১৪৩৩)।
দিগন্তের
এই
প্রান্ত
থেকে
পাড়ি
দিয়ে
অজানা
অন্য
প্রান্তে
তোমরা
নিশ্চয়ই
ভালো
আছো
আর
তোমরা
ভালো
আছো
বলেই
আমরাও
ধরার
বুকে
ভালো
আছি।
সশরীরে
উপস্থিত
না
থেকেও
তোমাদের
নিরন্তর
উপস্থিতি
ও
আশীর্বাদ
উপলব্ধি
করি।জানো
তো,
তোমরা
ও
পারে
পাড়ি
দেওয়ার
পর
পৃথিবীতে
মহামারী,
প্রাকৃতিক
দুর্যোগ
বা
কতো
অপ্রিয়
ঘটনা
ঘটে
চলেছে
তবুসব
দুর্ভোগ
কাটিয়ে
দিব্যি
বেঁচে
রয়েছি,এ
তো
তোমাদের
ভালোবাসার
জোর
ছাড়া
আর
কিছু
নয়।'বাবা'মূল্যবোধের
শিক্ষা
তোমার
কাছে
পেয়েছি,তাই
পালন
করে
চলেছি।
'মা' তোমার কাছে
শিখেছি
ধৈর্য্য,সারল্য
ও
সততা
,সেটাও
অনুসরণ
করে
যাচ্ছি।
এভাবেই
পথ
দেখিয়ে
যেও,
অনেক
আদর
দিলাম
তোমাদের,সাথে
শ্রদ্ধা।
পৃথিবীর
সকল
বাবা
মাকে
শ্রদ্ধা
জানাই।
ইতি।
তোমাদের মেয়ে
, কেয়া ।
(কেয়া
চক্রবর্তী
)
নববর্ষের চিঠি
– কেয়া চক্রবর্তী
[শব্দ সংখ্যা ১১১]
নববর্ষের চিঠি
– বর্ণালী চৌধুরী [শব্দ
সংখ্যা ১১৫]
প্রিয়,
স্বাতীর
গানমঞ্চ,
ভার্চুয়াল
মঞ্চ,
মুঠোফোন
বিষয়:নববর্ষের শুভেচ্ছা
জানিয়ে চিঠি
বন্ধুবরেষু,
প্রথমেই নতুন বছর ১৪৩৩
বঙ্গাব্দ তথা বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালাম সকল গুনিজনদের। বড়দের
প্রণাম জানাই। আশা করবো জীবনের
চলার পথে আগামী দিনগুলো
সুখ সাচ্ছন্দ ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবো
সকলের সহযোগিতায়। এই মধ্যগগনে এসে
এতটুকুন তো বুঝে গেছি
একা পথ চলা খুব
একটা সোজা ব্যাপার নয়।
২০১৯সাল থেকে স্বাতীর গানমঞ্চের
সাথীদের সাথে পরিচয়। স্বাতীদির
অক্লান্ত প্রচেষ্টায় "স্বাতীর গানমঞ্চ" আজ গানের জগতে
একটা বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। আগামীতে
আরো অনেক অনেক দূর
ছড়িয়ে পরবে এই মঞ্চের
নাম। "জন্মিলে মরিতে হইবে" তাই একদিন আমরা
হয়তো থাকবোনা কিন্তু "স্বাতীর গানমঞ্চ" এগিয়ে যাবে আগামী প্রজন্মের
সাহচর্যে। শুধুমাত্র গান নয় গানের
পাশাপাশি নৃত্য কবিতা কেও গুরুত্ব দিয়ে
শিল্পীদের উৎসাহ দিয়ে এগিয়ে চলেছি
আমরা। ইতি
পাশে থাকার বন্ধু
বর্ণালী চৌধুরী
নববর্ষের চিঠি – অপর্ণা গোস্বামী [শব্দ সংখ্যা ১৬৩]
শ্রীচরণেষু
বাবা,
আমার প্রণাম
নিও।
অনেক দিন তোমার
গলার স্বর, স্পর্শ পাই নি। খুব ইচ্ছে করে,
একবার তোমাকে দেখতে—
কুচকুচে কালো চুল, নিপাট ভালো মানুষ, সন্তানদের একটু ভালো কাজের জন্য যার বুক
ফুলে উঠত, সেই বাবা। অবাক লাগে আমার অস্তিত্ব যার কারণে, সেই আজ নেই।
তোমার মনে
আছে নতুন বছরের সেই দিনগুলো? তোমার সাথে মন্দির দর্শন, হালখাতা পুজো... তোমার প্রতিষ্ঠা
করা সেই মেডিসিন এর দোকান আজও আছে। তুমি নিজে একজন জাজ কোর্টের সেরেস্তা পদে থেকেও
এই দোকান প্রতিষ্ঠা করেছিলে।
খুব মনে পড়ে
নতুন জামা, সিঙাড়া,জিলিপি দিয়ে সকালের প্রাতরাশ। দুপুরে খাসির মাংস আর সঙ্গে গরম ভাত।
মা-কে আর তোমাকে বছরের এই দিনটিতে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা। হারিয়ে গেছে সেই দিনগুলো,
সাথে তুমিও।
এখন তো অনেক
আধুনিক হয়েছি আমরা, রেস্টুরেন্টে খেতে যাই... কিন্তু বিশ্বাস করো, সেই আনন্দটা নেই।
জানি না আগামী প্রজন্মে এই নববর্ষের কদর থাকবে
না কি, কিন্তু আমরা অনেক আনন্দ করেছি।
তুমি কেমন
আছো বাবা? ভাবলে খুব কষ্ট হয়, বুক ফেটে যায়।
আমার প্রণাম
আর ভালোবাসা নিও। ভালো থেকো।🙏
তোমার,
অপা।
আজ বাবা নেই,
কিন্তু তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখা আমার এই চিঠি।
নববর্ষের চিঠি
– অপর্ণা গোস্বামী [শব্দ সংখ্যা ১৬৩]
নববর্ষের চিঠি – বিদিশা ভট্টাচার্য [শব্দ সংখ্যা ১৯০]
প্রিয় আইডিয়াল
অ্যাসোসিয়েশন
শুভ নববর্ষ (১৪৩৩) । কুশল হোক। আমার ছোটবেলার
প্রাঙ্গণে তোমাকে আবার স্মরণ করি। আমার ছোটবেলার স্মৃতি কেটেছে যেথায় বাইশটা বছর ছাপ্পান্ন
ফ্ল্যাট নিয়ে একান্নবর্তী পরিবারে। আমাদের সারাবছরের গান নাচ নাটক কবিতা ভরা দল
" নাচন কোঁদন কমিটি ( NCC ) .. নববর্ষের একমাস আগে থেকে শুরু হতো রিহার্সাল। আবাসনের
বড় দিদি - দাদাদের ওপর ভার ছিল এই অনুষ্ঠান করানোর। তাদের বাড়িতে ই রিহার্সাল। এসে
পড়ত ১৫ই এপ্রিল, ১লা বৈশাখ। সকাল থেকে সাজো সাজো রব। স্টেজ বাঁধা হয়েছে দুটো তিনটে
চৌকি দিয়ে কিন্তু তাকে সাজানোর দায়িত্ব আমাদের ই। বাজেট কম। তাই মা , কাকীমা , জেঠিমা
দের শাড়ি, দিদিদের ফেস পাউডার, কাজল , টিপ, লিপস্টিক দিয়ে মেকাপ। তারপর শুরু হতো
" বিচিত্রানুষ্ঠান".. একদম শেষে থাকতো" যেমন খুশি সাজো"। একবার
আমি সাঁওতালি মেয়ে সেজে মাথায় কৃষ্ণচূড়া ফুল লাগিয়েছিলাম তোমার মনে আছে ! তোমার
ই বাগানের ফোটা ফুল। কত আনন্দ, কত মধুর স্মৃতি।
এখনও তুমি আছ একই মহিমায় পরের প্রজন্মদের সাথে
নিয়ে। কিন্তু সেই উৎসব মুখর দিনগুলো তে আর যাওয়া হয় না। ছবি দেখি ফেসবুকে । এখন
সেই আমাদের দুই হৃদয়ের সেতু বন্ধন।
শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়ে আজ
কলম থামালাম।
ইতি
তোমার এক বাইশ
বছরের সঙ্গী"মামন "
নববর্ষের চিঠি
– বিদিশা ভট্টাচার্য [শব্দ সংখ্যা ১৯০]
নববর্ষের চিঠি – সুমিতা চ্যাটার্জি [শব্দ সংখ্যা ৩৭২]
উজ্জ্বলা,
আমার লেখাটা পড়ে
নিশ্চই অবাক হচ্ছিস। মোবাইলের
দিকে চোখ রেখে বোধহয়
বসেছিলিস, কখন Hi লিখে কখন শুভ
নববর্ষ, ১৪৩৩ কখন WhatsApp-এ
ভেসে উঠবে। তার বদলে আজ
১ বৈশাখ সকালে বাড়ীর কলিং বেলটা বেজে
উঠল, আর তারপর ক্যুরিয়ারে
আমার এই চিঠি। আসলে
কাল রাত্তিরে কিছুতেই ঘুম আসছিল না,
কত স্মৃতি বিনা আমন্ত্রণে মনের
দুয়ারে কড়া নেড়ে যাচ্ছিল।
তখন আমাদের ছাত্রজীবন। ১ বৈশাখে কে
কিরকম সাজব, কখন বেরোবো, কোথায়
কোথায় ঘুরব, কে কটা ক্যালেন্ডার
পাব, কোন দোকানে কি
খাওয়াবে, কোল্ড ড্রিংকস দেবে কিনা, মিষ্টির
প্যাকেটের নিমকিটা কে খাবে তাই
নিয়ে কত না হইচই।
আচ্ছা বলতো WhatsApp-এ এত কথা
লিখতে পারতাম। তুই আমার সঙ্গে
একমত হবি কিনা জানি
না, WhatsApp আমাদের মনটাকে উপস্থিত করার পরিবর্তে আমাদের
ব্যস্ততা, সময়ের অভাব, সৌজন্য রক্ষার এক যান্ত্রিক মাধ্যম
মাত্র। এর দ্বারা করমর্দন
হয়, আলিঙ্গন হয় না; প্রস্তরীভূত
হৃদয়ের শব্দের দীনতার এক করুণ বহিঃপ্রকাশ।
সেই লেখায় মরুভূমির রুক্ষতা, সজল নিবিড় সম্পর্ক
গড়ে তোলে না। এ
যেন সেই ছোট বেলায়
ক্লাসে নাম ডাকলে "উপস্থিত"
বা "প্রেজেন্ট ম্যাডাম" বলা। যাই হোক
কাল তো কি করব
ভাবছি আর চোখটা বার
বার ঘড়ির দিকে চলে যাচ্ছে।
ক্রমশঃ ঘড়ির কাঁটা ১২ পেরিয়ে গেল,
আর তোকে চিঠি লিখতে
গিয়ে এই কথাটা আমার
প্রথম মনে এল "মনে
হল যেন পেরিয়ে এলেম
অন্তবিহীন পথ/আসিতে তোমার
দ্বারে।" লিখতে গিয়ে আরো মনে হল
"কত কথা পুষ্প প্রায়
বিকশি উঠিতে চায়..." কত কথা, কত
কথা - সমুদ্র ও আকাশ যেমন
বুক ভরা কথা নিয়ে
অপলকে একে অপরের দিকে
চিরকাল চেয়ে থাকে আর নীরবতায়
একে অপরের সঙ্গে কথা বলে চলে।
তোকে এতদিন পরে চিঠি লিখতে
গিয়ে কেমন যেন একটা
বাতুলতা পেয়ে বসছে। এ হল যান্ত্রিক
অসুরের বন্ধন ছিন্ন করে কিছু আবোল
তাবোল, কিছু বাতুলতা। কিন্তু
তাতেই তো মুক্তির আনন্দ,
ঘনিষ্ঠতার আঘ্রাণ - দূরে
থেকেও কাছে পাবার বা
ভাবার অনন্য অনুভূতি। যাক কি কথা
বলতে গিয়ে কি যে সব
বলে ফেললাম নিজেই জানি না। তবু
বিশ্বাস কর, তোকে এই
মুহূর্তটায় ঠিক একেবারে পাশে
পাবার এক দুর্লভ অনুভূতি
হচ্ছে। আর বাড়াব না,
কারণ বুঝতে পারছি আজ কথার অনির্বাণ
ফুলঝুরি জ্বলেই চলেছে। তাই প্রত্যক্ষ সাক্ষাতের
আশা রেখে আর নতুন
বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে কবির কাছে আরো
একবার ঋণ করি, কি
বল?
"বন্ধু
হও শত্রু হও যেখানে যে
কেহ রও ক্ষমা কর
আজিকার মত/পুরাতন বর্ষের
সাথে পুরাতন অপরাধ যত।"
ভাল
থাকিস, আনন্দে থাকিস আর যত পারিস
বিরস শুষ্ক অধরে হাসির ফুল
ফুটিয়ে যা।
সুমিতা
নববর্ষের চিঠি
– সুমিতা চ্যাটার্জি [শব্দ সংখ্যা ৩৭২]














খুব আনন্দিত
ReplyDelete