ভাদু গান...
Jishnu Hati
‘ভাদু বল ক্যামনে/ খ্যাতের জমি পড়ে রইলো জল বিহনে!’
ভাদু গান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি প্রাচীন লোকগান। ভাদু উৎসবে এই গান গাওয়া হয়ে থাকে। ভাদু উৎসব ভাদ্র মাসের উৎসব। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিনে ভাদু পুজো হয়ে থাকে। ব্রতের ক্ষেত্রে ভাদ্র মাসের প্রারম্ভেই শুরু হয় মেয়েলি ব্রত।
আদিবাসী, সাঁওতালদের মধ্যে করম গান ও উৎসব পালন করার রীতি রয়েছে বর্ষাকালে। তা-ও বিশেষ ভাবে ভাদ্র মাসে। বর্ষা উৎসবের এই করম গানের হিন্দু সংস্করণ হিসেবে ভাদু গানকে ধরেছেন আশুতোষ ভট্টাচার্য। তিনি ভাদু গানকে আর্যেতর সমাজ উদ্ভূত ধরে, হিন্দু ধর্মের পৌত্তলিকতার প্রভাবজাত বলেছেন।
বাংলার শিকড়ে লেপ্টে থাকা এই লোকগানের জন্মের সঙ্গে মিশে রয়েছে ইতিহাস আর কিংবদন্তির অপরূপকথারা।
বিভিন্ন গবেষক, লেখক, ভাদু শিল্পীদের দেওয়া তথ্যানুসারে কিংবদন্তির বিভিন্ন রূপ কেমন? ভাদুই বা কে? এ নিয়ে নানা কিংবদন্তী রয়েছে।
ভাদুর আড়ালে এক রাজকুমারীর করুণ গল্প। রাজকন্যে ভদ্রাবতী। ভদ্রাবতীর এই কাহিনিও অবশ্য একরৈখিক নয়। তাতে নানা রং, পাঠান্তর। লোককাহিনির শর্তই হল, তা তৈরি হয় লোকমুখে। এক মুখ থেকে অন্য মুখে বদলাতে থাকে নদীর স্রোতে বয়ে যাওয়ার মতো। এখানেও তাই ঘটেছে। কিন্তু, এই কাহিনিকে একেবারে গল্পকথা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে ঐতিহাসিক সময়, ঐতিহাসিক চরিত্ররা। ভাদুর জন্ম তাই কল্পনা আর ইতিহাসে মেশা।
ভদ্রাবতী সম্বন্ধে জানা যায়, তিনি পুরুলিয়ার রঘুনাথগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত কাশীপুরের রাজা নীলমণি সিংহদেওয়ের তৃতীয় কন্যা। তাঁর মায়ের নাম অনুপকুমারী বা কলাবতী। যদিও, ইতিহাস এই তথ্য নিয়ে সন্দিহান। রাজা নীলমণির তিন রানির গর্ভে দশটি পুত্রসন্তান হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কন্যাসন্তানের প্রমাণ তো মেলে না। স্থানীয় গবেষকদের অনুমান, ভদ্রাবতীর জন্ম ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে। যদিও পঞ্চকোট রাজবংশলতিকায় ভদ্রাবতীর নাম নেই। কিন্তু নীলমণি সিংহদেওয়ের নাম রয়েছে। গবেষকদের একাংশের দাবি, ভদ্রাবতী ১৭ বছর বেঁচে ছিলেন। সে যাহোক, এই ভদ্রাবতী রাজার বড়ো প্রিয়। তাঁর বিবাহ স্থির। কিন্তু, বিয়ে করতে আসার পথে হবু স্বামী আর বরযাত্রীরা সবাই প্রাণ দিলেন ডাকাতদের হাতে। সেই বিরহ সহ্য করতে না পেরে ভদ্রাবতীও চিতার আগুনে প্রাণ বিসর্জন দিল। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার, পুরুলিয়া’ বইতে এই তথ্যই রয়েছে। একমাত্র কন্যার মৃত্যুতে শোকাহত রাজা পরে তাঁর কন্যার প্রেমের আকুতিকে স্মরণীয় করে রাখতেই নাকি প্রচলন করেন ভাদু গান।
এখানে একটা কথা জানিয়ে রাখা ভাল, ভাদুর জন্ম এবং মৃত্যু দুই-ই ভাদ্র মাসে। তাই ভাদ্র মাসে হিন্দুদের কোনও বিবাহ থাকে না। তবুও একটা প্রশ্ন জাগে যেখানে পঞ্চকোট রাজবংশের বংশলতিকায় ভাদুর নাম নেই, সেখানে কি করে বোঝা যায় যে ভাদু নীলমণি সিংহদেওয়ের কন্যা? আবার তাই যদি না-ই হবেন, তবে এত দিন ধরে তাঁদের বাবা-মেয়ের নামে গান বাঁধা হচ্ছে কেন? নীলমণি তো কাল্পনিক চরিত্র নন। আজ থেকে প্রায় পৌনে দুশো বছর আগের কথা। তখন পুরুলিয়ার কাশীপুরের পঞ্চকোট রাজপরিবারের রাজা ছিলেন নীলমণি সিংদেও।
এইখানে এসে একটা ধাঁধাঁ জোরালো হয়। ভাদু তো লোকগান। অথচ, তার প্রতিষ্ঠা হল কিনা রাজপরিবারের হাত ধরে। বিশ্বাস না করেও উপায় নেই। কারণ ইতিহাস বলছে, পঞ্চকোট রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় সত্যিই গাওয়া হত ভাদু গান। কিন্তু, সেই ভাদুতে লোকশিকড়ের ছাপ নেই। বরং রাজপরিবারের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাজদরবারে হারমোনিয়াম, পাখোয়াজ, তবলা, সানাই সহযোগে মার্গধর্মী উচ্চ সাহিত্য গুণ নির্ভর এক উচ্চাঙ্গ মার্গসঙ্গীতেরই ঘরানা যেন। যে ঘরানার প্রতিষ্ঠাতারা সবাই রাজপরিবারের মানুষ - ধ্রুবেশ্বরলাল সিংদেও, প্রকৃতীশ্বরলাল সিংদেও এবং রাজেন্দ্রনারায়ণ সিংদেও। এঁরা দরবারী ভাদু নামক এক ঘরানার সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু অন্যান্য সকল ভাদু গীত লৌকিক সঙ্গীত হিসেবেই জনপ্রিয় হয়েছে। লিখিত সাহিত্য না হওয়ায় এই গান লোকমুখেই প্রচারিত হয়ে এসেছে।
অথচ, ভাদু আদতে লোকজীবনের সঙ্গে লেপ্টে থাকা মেয়েদের গান। শুধু তাই নয়, ভাদু আসলে লোকউৎসবও। যে গান, যে উৎসবের গড়ন, রীতি ঐ রাজপরিবারের দরবার ছাড়িয়ে নেমে এসেছে মাটিতে। এ কেমন করে সম্ভব? ভদ্রাবতীকে নিয়ে আরেকটি গল্পে হয়তো রয়েছে এর ইঙ্গিত। সেই গল্পে ভদ্রাবতী রাজার ঔরসজাত রাজকন্যে নয়।
লাড়া গ্রামের মোড়ল এক ভাদ্রমাসে ধানখেতের আলের পাশ থেকে কুড়িয়ে পেলেন ফুটফুটে এক কন্যাসন্তানকে। তাকে কোলে নিয়েই মোড়ল বুঝলেন, শিশুটি সদ্যোজাত। কে জানে, হয়তো এই উর্বরা ভূমিই জন্ম দিয়েছে তার। যেভাবে ভূমি জন্ম দিয়েছিল সীতারও। মোড়ল শিশুটিকে নিয়ে এলেন ঘরে। সেই ভাদ্র ছিল রোদে পোড়া, খটখটে। কিন্তু, এই মেয়ে ঘরে আসতেই বৃষ্টি এল ঝেঁপে। ধান হল খুব। সবাই বললে, এ মেয়ে ভারী লক্ষ্মীমন্ত। মোড়ল-দম্পতি মেয়ের নাম দিলেন ভদ্রাবতী। ডাকনাম ভাদু। ভাদুর রূপ হল খুব। চাষির ঘরে এমন রূপ মানায় না। রাজা নীলমণি সিংদেওর কানেও গেল ভাদুর কথা। মন্ত্রী ধ্রুবচাঁদকে রাজা বললেন, ওই মেয়েকে তিনি দত্তক নেবেন। রাজপরিবারই ওর যোগ্য স্থান। কিন্তু, ভাদু কিছুতেই যেতে চাইল না বাবা-মাকে ছেড়ে। তখন রাজা গ্রামে-গ্রামে ঢেঁড়া পিটিয়ে বলে দিলেন, রাজপ্রাসাদে না থাকলেও ভদ্রাবতী রাজকন্যেই।
ভাদু তখন ষোড়শী। তার কানে উজিয়ে আসে বাঁশির সুর। গ্রামের কবিরাজের ছেলে অঞ্জন সেই বংশীবাদক। মন দেওয়া-নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে, হইহই করে পঞ্চকোটেও এসে পড়ে ১৮৫৭-র সিপাহি বিদ্রোহের আগুন। বিদ্রোহে মদত দেওয়ার অভিযোগে ইংরেজদের হাতে বন্দি হন রাজা নীলমণি সিংদেও। রাজা বন্দি, এদিকে রাজকন্যে প্রেমে পড়েছে কবিরাজপুত্রর। মন্ত্রী ধ্রুবচাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ে। রাজা মুক্তি পেতেই সে জানায় সবটা। ক্রুদ্ধ রাজা বন্দি করেন অঞ্জনকে।
অঞ্জনের কয়েদের খবরে ছুটে আসে ভদ্রাবতী। তার করুণ আকুতিতেও মন গলে না রাজার। তখন ভাদু, দিনের পর দিন হৃদয় নিঙড়ানো করুণ গান গেয়ে ঘুরতে থাকে কয়েদখানার চারপাশে। সেই গানে একদিন মন গলল রাজার। অঞ্জনকে মুক্তি দিলেন তিনি। কিন্তু, ভাদুর খোঁজ আর মেলে না। কেউ বলল, ভাদু শোকে আত্মঘাতী হয়েছে নদীর জলে। কেউ বলল, আকাশ থেকে মাটিতে নেমেছিল ভাদু, আবার ফিরে গেছে আকাশেই। বাকিরা বলল, ভাদু ভেসে গেছে নদীর কান্নার সঙ্গে। সেই থেকে ভাদুর গান ভাসতে ভাসতে ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশের নানান কোণে।
এই গল্প বিশ্বাস করতে বড়ো সাধ হয়। যদিও, বীরভূমে গেলে দেখা যাবে ভদ্রাবতী নাকি পুরুলিয়ার নন, হেতমপুরের রাজকন্যে। বর্দ্ধমানের রাজপুত্রকে মন দিয়েছিল সে। ইলামবাজারের কাছে চৌপারির শালবনে ডাকাতরা যখন মেরে ফেলল রাজুপুত্রকে, তখন তাঁর সঙ্গেই সহমরণে গেছিল ভদ্রাবতী। সেই যন্ত্রণার ইতিহাসই নাকি বোনা ভাদু গানে।
ভাদুকে ঘিরে এইসমস্ত গপ্পের সময়ই খুব বেশি হলে দেড়শো-পৌনে দুশো বছর আগেকার। সেদিনের রাজকন্যে ভদ্রাবতী। অথচ, এই রাজকন্যেকে নিয়ে গানই যে কীভাবে মাটির এত কাছের গান হয়ে উঠল, ভাবতে অবাক লাগে। আরো অবাক লাগে, ভাদু গানের সঙ্গে জড়ানো রীতিকে দেখলে। পয়লা ভাদ্র কুমারী মেয়েরা ঘরে ভাদু প্রতিষ্ঠা করে। ভাদ্র সংক্রান্তির আগের রাতে ভাদু জাগরণ হয়। তারপরে, শুরু হয় ভাদু গান। ভাদ্র সংক্রান্তির সকালে ভাদু বিসর্জন যায় জলে। বীরভূমে এই প্রথা খানিক আলাদা। সেখানে ভাদু উৎসবের গানে যোগ দেয় পুরুষরাও। ভাদুর মূর্তি নাকি ছিল না আগে। ফুল রেখে বা গোবরে ধান দিয়ে মূর্তি কল্পনা করা হত। কিন্তু, এখন মূর্তি এসেছে। সেই মূর্তিরও নানা রূপ। কোথাও ভাদু হংসে উপবিষ্টা, কোথাও বা পদ্মে। ব্রাহ্মণ্য ঘরানার মূর্তির ঘেরাটোপে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছে লোক-কল্পনার ভাদু।
অনেকে মনে করেন ‘ভাদ্র’ মাস থেকে ভাদু শব্দটি এসেছে। আবার কেউ বলেন, ভাদু মানে লক্ষ্মী। যেহেতু লক্ষ্মী বিভিন্ন সময়ে পূজিত হন, তাই ভাদ্র মাসের লক্ষ্মীকে পৃথক ভাবে চিহ্নিত করার জন্য ভাদু পুজোর প্রচলন হয়। ধর্মীয় মতে ভাদ্র মাসে যে রমণী লক্ষ্মীপুজো করেন তাঁর উপরে যশোলক্ষ্মী, ভাগ্যলক্ষ্মী, কুললক্ষ্মী প্রসন্ন হন। সেই সূত্রে মনে হয়, ভাদু আসলে শস্যদেবী। ধান ওঠার ফলে চাষিদের ঘরে শস্য বন্দনার যে রেওয়াজ ছিল, তা নানা বিবর্তনের ফলে গড়ে ওঠে ভাদুদেবী রূপে। অন্য মতও রয়েছে। সেই মতে ভাদুর সঙ্গে বাস্তবের কাহিনি জড়িয়ে আছে।
কেউ বলেন, ভাদ্রমাসে পঞ্চকোট ও ছাতনার রাজার মধ্যে যুদ্ধে পঞ্চকোটের রাজা বিজয়ী হন। সেই স্মৃতিতেই এই গান ও উৎসবের শুরু।
অনেকে আবার ভাদুর সঙ্গে মীরাবাই-এর মিল পান। সে খানে রাজকন্যা ভাদু, জন্ম থেকে তিনি মীরার মতো কৃষ্ণভক্তি পরায়ণা। রাজা তাঁর বিবাহ ঠিক করলে ভাদু মন্দিরে নিজের প্রাণ ধ্যানস্থ অবস্থায় ত্যাগ করেন। কেউ কেউ ভাদুকে বাঁকুড়ার মল্ল রাজাদের কন্যা ভদ্রাবতী বলে মনে করেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে ভাদু পুজোর প্রচলন।
অনেকের মতে সাঁজপুজুনি, পুণ্যিপুকুরের মতো না হলেও এয়োস্ত্রী মহিলাদের শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে সংসার জীবনে সুস্থ থাকার জন্য এ এক ধর্মীয় ব্রত। কেউ কেউ বলেন ভাদু বীরভূমের সন্তান। তাই বীরভূমে ভাদু পুজোর এত প্রসার। আবার বর্দ্ধমানের সঙ্গে ভাদুর যোগ খুঁজে পান কেউ কেউ। অবিভক্ত বর্দ্ধমানের খনি অঞ্চলে ‘ভাদা গান’ বলে একটি লোক-সংস্কৃতি প্রচলিত ছিল। এখনও কিছু কিছু জায়গায় তার প্রচলন রয়েছে। তার নামে ভাদু পুজো।
উপরের এই সব মত থেকে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। যেমন ভাদ্র মাস থেকে কি ভাদু পুজো? সত্যের খোঁজ পাওয়া ভার। কারণ, সব লোক-উৎসবের সঙ্গে মাসের নাম জড়িয়ে থাকে এমনটা নয়।
সব মিলিয়ে, ভাদু গান, ভাদুর কিংবদন্তিকে বড়ো ভালোবেসে জড়িয়ে রাখে রহস্য। ঔপনিবেশিক সময়ের এক রাজকন্যের গল্প কীভাবে এমন একটি লোকউৎসবের জন্ম দেয়—তা নিয়ে বিশদে তর্ক চলতে পারে। কেউ কেউ বলেন, ভাদুর গপ্প আসলে আরো সুপ্রাচীন। এই গপ্পে পঞ্চকোট বা হেতমপুরের রাজপরিবারের ইতিহাসকে জোড়া হয়েছে পরে। যেভাবে, লোকগান ভাদুকে দরবারি আঙ্গিকে জুড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পঞ্চকোট রাজারা। কেউ বলেন অন্য কথা। ভাদুর সুরের মতোই, গানের মতোই ভাদুকে ঘিরে থাকা ইতিহাস, গল্প, প্রথারা ভেসে ভেসে যায় দূর-দূরান্তরে। পুরুলিয়া, বীরভূম ছাড়াও বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্দ্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর এমনকি রাঁচি, হাজারিবাগেও।
এমন রহস্য না থাকলে হয়তো প্রেমের কল্পনারাও শুকিয়ে যায়।
টুসু ও ঝুমুর গানের বিপরীতে ভাদু গানগুলিতে প্রেম এবং রাজনীতি সর্বতোভাবে বর্জিত। সাধারণতঃ গৃহনারীদের জীবনের কাহিনী এই গানগুলির মূল উপজীব্য। পৌরাণিক ও সামাজিক ভাদু গানগুলি বিভিন্ন পাঁচালির সুরে গীত হয়। সাধারণতঃ রামায়ণ, মহাভারত ও কৃষ্ণ-রাধার প্রেম পৌরাণিক গানগুলির এবং বারোমাস্যার কাহিনী সামাজিক গানগুলির বিষয় হয়ে থাকে। এছাড়া চার লাইনের ছড়া বা চুটকি জাতীয় ভাদু গানগুলিতে সমাজ জীবনের বিভিন্ন অসঙ্গতির চিত্র সরস ভঙ্গীতে ফুটিয়ে তোলা হয়।
বর্তমানে সামাজিক সচেতনা মূলক প্রচারের জন্যও ভাদু গান গাওয়া হয়ে থাকে।
Jishnu Hati
‘ভাদু বল ক্যামনে/ খ্যাতের জমি পড়ে রইলো জল বিহনে!’
ভাদু গান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি প্রাচীন লোকগান। ভাদু উৎসবে এই গান গাওয়া হয়ে থাকে। ভাদু উৎসব ভাদ্র মাসের উৎসব। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিনে ভাদু পুজো হয়ে থাকে। ব্রতের ক্ষেত্রে ভাদ্র মাসের প্রারম্ভেই শুরু হয় মেয়েলি ব্রত।
আদিবাসী, সাঁওতালদের মধ্যে করম গান ও উৎসব পালন করার রীতি রয়েছে বর্ষাকালে। তা-ও বিশেষ ভাবে ভাদ্র মাসে। বর্ষা উৎসবের এই করম গানের হিন্দু সংস্করণ হিসেবে ভাদু গানকে ধরেছেন আশুতোষ ভট্টাচার্য। তিনি ভাদু গানকে আর্যেতর সমাজ উদ্ভূত ধরে, হিন্দু ধর্মের পৌত্তলিকতার প্রভাবজাত বলেছেন।
বাংলার শিকড়ে লেপ্টে থাকা এই লোকগানের জন্মের সঙ্গে মিশে রয়েছে ইতিহাস আর কিংবদন্তির অপরূপকথারা।
বিভিন্ন গবেষক, লেখক, ভাদু শিল্পীদের দেওয়া তথ্যানুসারে কিংবদন্তির বিভিন্ন রূপ কেমন? ভাদুই বা কে? এ নিয়ে নানা কিংবদন্তী রয়েছে।
ভাদুর আড়ালে এক রাজকুমারীর করুণ গল্প। রাজকন্যে ভদ্রাবতী। ভদ্রাবতীর এই কাহিনিও অবশ্য একরৈখিক নয়। তাতে নানা রং, পাঠান্তর। লোককাহিনির শর্তই হল, তা তৈরি হয় লোকমুখে। এক মুখ থেকে অন্য মুখে বদলাতে থাকে নদীর স্রোতে বয়ে যাওয়ার মতো। এখানেও তাই ঘটেছে। কিন্তু, এই কাহিনিকে একেবারে গল্পকথা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে ঐতিহাসিক সময়, ঐতিহাসিক চরিত্ররা। ভাদুর জন্ম তাই কল্পনা আর ইতিহাসে মেশা।
ভদ্রাবতী সম্বন্ধে জানা যায়, তিনি পুরুলিয়ার রঘুনাথগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত কাশীপুরের রাজা নীলমণি সিংহদেওয়ের তৃতীয় কন্যা। তাঁর মায়ের নাম অনুপকুমারী বা কলাবতী। যদিও, ইতিহাস এই তথ্য নিয়ে সন্দিহান। রাজা নীলমণির তিন রানির গর্ভে দশটি পুত্রসন্তান হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কন্যাসন্তানের প্রমাণ তো মেলে না। স্থানীয় গবেষকদের অনুমান, ভদ্রাবতীর জন্ম ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে। যদিও পঞ্চকোট রাজবংশলতিকায় ভদ্রাবতীর নাম নেই। কিন্তু নীলমণি সিংহদেওয়ের নাম রয়েছে। গবেষকদের একাংশের দাবি, ভদ্রাবতী ১৭ বছর বেঁচে ছিলেন। সে যাহোক, এই ভদ্রাবতী রাজার বড়ো প্রিয়। তাঁর বিবাহ স্থির। কিন্তু, বিয়ে করতে আসার পথে হবু স্বামী আর বরযাত্রীরা সবাই প্রাণ দিলেন ডাকাতদের হাতে। সেই বিরহ সহ্য করতে না পেরে ভদ্রাবতীও চিতার আগুনে প্রাণ বিসর্জন দিল। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার, পুরুলিয়া’ বইতে এই তথ্যই রয়েছে। একমাত্র কন্যার মৃত্যুতে শোকাহত রাজা পরে তাঁর কন্যার প্রেমের আকুতিকে স্মরণীয় করে রাখতেই নাকি প্রচলন করেন ভাদু গান।
এখানে একটা কথা জানিয়ে রাখা ভাল, ভাদুর জন্ম এবং মৃত্যু দুই-ই ভাদ্র মাসে। তাই ভাদ্র মাসে হিন্দুদের কোনও বিবাহ থাকে না। তবুও একটা প্রশ্ন জাগে যেখানে পঞ্চকোট রাজবংশের বংশলতিকায় ভাদুর নাম নেই, সেখানে কি করে বোঝা যায় যে ভাদু নীলমণি সিংহদেওয়ের কন্যা? আবার তাই যদি না-ই হবেন, তবে এত দিন ধরে তাঁদের বাবা-মেয়ের নামে গান বাঁধা হচ্ছে কেন? নীলমণি তো কাল্পনিক চরিত্র নন। আজ থেকে প্রায় পৌনে দুশো বছর আগের কথা। তখন পুরুলিয়ার কাশীপুরের পঞ্চকোট রাজপরিবারের রাজা ছিলেন নীলমণি সিংদেও।
এইখানে এসে একটা ধাঁধাঁ জোরালো হয়। ভাদু তো লোকগান। অথচ, তার প্রতিষ্ঠা হল কিনা রাজপরিবারের হাত ধরে। বিশ্বাস না করেও উপায় নেই। কারণ ইতিহাস বলছে, পঞ্চকোট রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় সত্যিই গাওয়া হত ভাদু গান। কিন্তু, সেই ভাদুতে লোকশিকড়ের ছাপ নেই। বরং রাজপরিবারের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাজদরবারে হারমোনিয়াম, পাখোয়াজ, তবলা, সানাই সহযোগে মার্গধর্মী উচ্চ সাহিত্য গুণ নির্ভর এক উচ্চাঙ্গ মার্গসঙ্গীতেরই ঘরানা যেন। যে ঘরানার প্রতিষ্ঠাতারা সবাই রাজপরিবারের মানুষ - ধ্রুবেশ্বরলাল সিংদেও, প্রকৃতীশ্বরলাল সিংদেও এবং রাজেন্দ্রনারায়ণ সিংদেও। এঁরা দরবারী ভাদু নামক এক ঘরানার সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু অন্যান্য সকল ভাদু গীত লৌকিক সঙ্গীত হিসেবেই জনপ্রিয় হয়েছে। লিখিত সাহিত্য না হওয়ায় এই গান লোকমুখেই প্রচারিত হয়ে এসেছে।
অথচ, ভাদু আদতে লোকজীবনের সঙ্গে লেপ্টে থাকা মেয়েদের গান। শুধু তাই নয়, ভাদু আসলে লোকউৎসবও। যে গান, যে উৎসবের গড়ন, রীতি ঐ রাজপরিবারের দরবার ছাড়িয়ে নেমে এসেছে মাটিতে। এ কেমন করে সম্ভব? ভদ্রাবতীকে নিয়ে আরেকটি গল্পে হয়তো রয়েছে এর ইঙ্গিত। সেই গল্পে ভদ্রাবতী রাজার ঔরসজাত রাজকন্যে নয়।
লাড়া গ্রামের মোড়ল এক ভাদ্রমাসে ধানখেতের আলের পাশ থেকে কুড়িয়ে পেলেন ফুটফুটে এক কন্যাসন্তানকে। তাকে কোলে নিয়েই মোড়ল বুঝলেন, শিশুটি সদ্যোজাত। কে জানে, হয়তো এই উর্বরা ভূমিই জন্ম দিয়েছে তার। যেভাবে ভূমি জন্ম দিয়েছিল সীতারও। মোড়ল শিশুটিকে নিয়ে এলেন ঘরে। সেই ভাদ্র ছিল রোদে পোড়া, খটখটে। কিন্তু, এই মেয়ে ঘরে আসতেই বৃষ্টি এল ঝেঁপে। ধান হল খুব। সবাই বললে, এ মেয়ে ভারী লক্ষ্মীমন্ত। মোড়ল-দম্পতি মেয়ের নাম দিলেন ভদ্রাবতী। ডাকনাম ভাদু। ভাদুর রূপ হল খুব। চাষির ঘরে এমন রূপ মানায় না। রাজা নীলমণি সিংদেওর কানেও গেল ভাদুর কথা। মন্ত্রী ধ্রুবচাঁদকে রাজা বললেন, ওই মেয়েকে তিনি দত্তক নেবেন। রাজপরিবারই ওর যোগ্য স্থান। কিন্তু, ভাদু কিছুতেই যেতে চাইল না বাবা-মাকে ছেড়ে। তখন রাজা গ্রামে-গ্রামে ঢেঁড়া পিটিয়ে বলে দিলেন, রাজপ্রাসাদে না থাকলেও ভদ্রাবতী রাজকন্যেই।
ভাদু তখন ষোড়শী। তার কানে উজিয়ে আসে বাঁশির সুর। গ্রামের কবিরাজের ছেলে অঞ্জন সেই বংশীবাদক। মন দেওয়া-নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে, হইহই করে পঞ্চকোটেও এসে পড়ে ১৮৫৭-র সিপাহি বিদ্রোহের আগুন। বিদ্রোহে মদত দেওয়ার অভিযোগে ইংরেজদের হাতে বন্দি হন রাজা নীলমণি সিংদেও। রাজা বন্দি, এদিকে রাজকন্যে প্রেমে পড়েছে কবিরাজপুত্রর। মন্ত্রী ধ্রুবচাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ে। রাজা মুক্তি পেতেই সে জানায় সবটা। ক্রুদ্ধ রাজা বন্দি করেন অঞ্জনকে।
অঞ্জনের কয়েদের খবরে ছুটে আসে ভদ্রাবতী। তার করুণ আকুতিতেও মন গলে না রাজার। তখন ভাদু, দিনের পর দিন হৃদয় নিঙড়ানো করুণ গান গেয়ে ঘুরতে থাকে কয়েদখানার চারপাশে। সেই গানে একদিন মন গলল রাজার। অঞ্জনকে মুক্তি দিলেন তিনি। কিন্তু, ভাদুর খোঁজ আর মেলে না। কেউ বলল, ভাদু শোকে আত্মঘাতী হয়েছে নদীর জলে। কেউ বলল, আকাশ থেকে মাটিতে নেমেছিল ভাদু, আবার ফিরে গেছে আকাশেই। বাকিরা বলল, ভাদু ভেসে গেছে নদীর কান্নার সঙ্গে। সেই থেকে ভাদুর গান ভাসতে ভাসতে ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশের নানান কোণে।
এই গল্প বিশ্বাস করতে বড়ো সাধ হয়। যদিও, বীরভূমে গেলে দেখা যাবে ভদ্রাবতী নাকি পুরুলিয়ার নন, হেতমপুরের রাজকন্যে। বর্দ্ধমানের রাজপুত্রকে মন দিয়েছিল সে। ইলামবাজারের কাছে চৌপারির শালবনে ডাকাতরা যখন মেরে ফেলল রাজুপুত্রকে, তখন তাঁর সঙ্গেই সহমরণে গেছিল ভদ্রাবতী। সেই যন্ত্রণার ইতিহাসই নাকি বোনা ভাদু গানে।
ভাদুকে ঘিরে এইসমস্ত গপ্পের সময়ই খুব বেশি হলে দেড়শো-পৌনে দুশো বছর আগেকার। সেদিনের রাজকন্যে ভদ্রাবতী। অথচ, এই রাজকন্যেকে নিয়ে গানই যে কীভাবে মাটির এত কাছের গান হয়ে উঠল, ভাবতে অবাক লাগে। আরো অবাক লাগে, ভাদু গানের সঙ্গে জড়ানো রীতিকে দেখলে। পয়লা ভাদ্র কুমারী মেয়েরা ঘরে ভাদু প্রতিষ্ঠা করে। ভাদ্র সংক্রান্তির আগের রাতে ভাদু জাগরণ হয়। তারপরে, শুরু হয় ভাদু গান। ভাদ্র সংক্রান্তির সকালে ভাদু বিসর্জন যায় জলে। বীরভূমে এই প্রথা খানিক আলাদা। সেখানে ভাদু উৎসবের গানে যোগ দেয় পুরুষরাও। ভাদুর মূর্তি নাকি ছিল না আগে। ফুল রেখে বা গোবরে ধান দিয়ে মূর্তি কল্পনা করা হত। কিন্তু, এখন মূর্তি এসেছে। সেই মূর্তিরও নানা রূপ। কোথাও ভাদু হংসে উপবিষ্টা, কোথাও বা পদ্মে। ব্রাহ্মণ্য ঘরানার মূর্তির ঘেরাটোপে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছে লোক-কল্পনার ভাদু।
অনেকে মনে করেন ‘ভাদ্র’ মাস থেকে ভাদু শব্দটি এসেছে। আবার কেউ বলেন, ভাদু মানে লক্ষ্মী। যেহেতু লক্ষ্মী বিভিন্ন সময়ে পূজিত হন, তাই ভাদ্র মাসের লক্ষ্মীকে পৃথক ভাবে চিহ্নিত করার জন্য ভাদু পুজোর প্রচলন হয়। ধর্মীয় মতে ভাদ্র মাসে যে রমণী লক্ষ্মীপুজো করেন তাঁর উপরে যশোলক্ষ্মী, ভাগ্যলক্ষ্মী, কুললক্ষ্মী প্রসন্ন হন। সেই সূত্রে মনে হয়, ভাদু আসলে শস্যদেবী। ধান ওঠার ফলে চাষিদের ঘরে শস্য বন্দনার যে রেওয়াজ ছিল, তা নানা বিবর্তনের ফলে গড়ে ওঠে ভাদুদেবী রূপে। অন্য মতও রয়েছে। সেই মতে ভাদুর সঙ্গে বাস্তবের কাহিনি জড়িয়ে আছে।
কেউ বলেন, ভাদ্রমাসে পঞ্চকোট ও ছাতনার রাজার মধ্যে যুদ্ধে পঞ্চকোটের রাজা বিজয়ী হন। সেই স্মৃতিতেই এই গান ও উৎসবের শুরু।
অনেকে আবার ভাদুর সঙ্গে মীরাবাই-এর মিল পান। সে খানে রাজকন্যা ভাদু, জন্ম থেকে তিনি মীরার মতো কৃষ্ণভক্তি পরায়ণা। রাজা তাঁর বিবাহ ঠিক করলে ভাদু মন্দিরে নিজের প্রাণ ধ্যানস্থ অবস্থায় ত্যাগ করেন। কেউ কেউ ভাদুকে বাঁকুড়ার মল্ল রাজাদের কন্যা ভদ্রাবতী বলে মনে করেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে ভাদু পুজোর প্রচলন।
অনেকের মতে সাঁজপুজুনি, পুণ্যিপুকুরের মতো না হলেও এয়োস্ত্রী মহিলাদের শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে সংসার জীবনে সুস্থ থাকার জন্য এ এক ধর্মীয় ব্রত। কেউ কেউ বলেন ভাদু বীরভূমের সন্তান। তাই বীরভূমে ভাদু পুজোর এত প্রসার। আবার বর্দ্ধমানের সঙ্গে ভাদুর যোগ খুঁজে পান কেউ কেউ। অবিভক্ত বর্দ্ধমানের খনি অঞ্চলে ‘ভাদা গান’ বলে একটি লোক-সংস্কৃতি প্রচলিত ছিল। এখনও কিছু কিছু জায়গায় তার প্রচলন রয়েছে। তার নামে ভাদু পুজো।
উপরের এই সব মত থেকে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। যেমন ভাদ্র মাস থেকে কি ভাদু পুজো? সত্যের খোঁজ পাওয়া ভার। কারণ, সব লোক-উৎসবের সঙ্গে মাসের নাম জড়িয়ে থাকে এমনটা নয়।
সব মিলিয়ে, ভাদু গান, ভাদুর কিংবদন্তিকে বড়ো ভালোবেসে জড়িয়ে রাখে রহস্য। ঔপনিবেশিক সময়ের এক রাজকন্যের গল্প কীভাবে এমন একটি লোকউৎসবের জন্ম দেয়—তা নিয়ে বিশদে তর্ক চলতে পারে। কেউ কেউ বলেন, ভাদুর গপ্প আসলে আরো সুপ্রাচীন। এই গপ্পে পঞ্চকোট বা হেতমপুরের রাজপরিবারের ইতিহাসকে জোড়া হয়েছে পরে। যেভাবে, লোকগান ভাদুকে দরবারি আঙ্গিকে জুড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পঞ্চকোট রাজারা। কেউ বলেন অন্য কথা। ভাদুর সুরের মতোই, গানের মতোই ভাদুকে ঘিরে থাকা ইতিহাস, গল্প, প্রথারা ভেসে ভেসে যায় দূর-দূরান্তরে। পুরুলিয়া, বীরভূম ছাড়াও বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্দ্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর এমনকি রাঁচি, হাজারিবাগেও।
এমন রহস্য না থাকলে হয়তো প্রেমের কল্পনারাও শুকিয়ে যায়।
টুসু ও ঝুমুর গানের বিপরীতে ভাদু গানগুলিতে প্রেম এবং রাজনীতি সর্বতোভাবে বর্জিত। সাধারণতঃ গৃহনারীদের জীবনের কাহিনী এই গানগুলির মূল উপজীব্য। পৌরাণিক ও সামাজিক ভাদু গানগুলি বিভিন্ন পাঁচালির সুরে গীত হয়। সাধারণতঃ রামায়ণ, মহাভারত ও কৃষ্ণ-রাধার প্রেম পৌরাণিক গানগুলির এবং বারোমাস্যার কাহিনী সামাজিক গানগুলির বিষয় হয়ে থাকে। এছাড়া চার লাইনের ছড়া বা চুটকি জাতীয় ভাদু গানগুলিতে সমাজ জীবনের বিভিন্ন অসঙ্গতির চিত্র সরস ভঙ্গীতে ফুটিয়ে তোলা হয়।
বর্তমানে সামাজিক সচেতনা মূলক প্রচারের জন্যও ভাদু গান গাওয়া হয়ে থাকে।





No comments:
Post a Comment