জীবনের প্রায় অর্ধেকটা পথ পার হয়ে এসেছি। নানা চড়াই আর উৎরাই পথটাতে। সব সাধ পূর্ণ হয়না আবার কিছু কিছু জিনিষ না চাইতেই এক ঝলক শীতল হাওয়ার মত এসে পথের ক্লান্তি দূর করে দেয়। বাঙালী তো – তায় আবার পূর্ব বাঙলার মুক্তিযুদ্ধ দেখা রক্ত বইছে দেহে... আবেগটা একটু বেশী। এই আবেগের জন্য খেসারত ও কম দেইনি! কি করব! সবাই তো আর এক রকম হয়না!
ফেলে আসা দিনগুলো মাঝে মাঝেই উঁকি মারে আজকাল। বিশেষ করে শৈশবের মুহূর্তগুলো। ওপার বাংলায় কেটেছে শৈশব আর কৈশরের বেশীর ভাগ সময়। তখন তো যোগাযোগ ব্যবস্থা এত ভাল ছিলনা। টেলিফোন কদাচিৎ কারো কারো বাড়িতে থাকতো। তাই বন্ধুদের সাথে আড্ডামারার একমাত্র সময় ছিল টিফিন টাইম আর পিরিয়ড পালটাবার মাঝে ক্লাসে টিচার আসার আগের সময়টুকু! পড়া তো ক্লাসে এত সুন্দর ভাবে শিক্ষকেরা বুঝিয়ে দিতেন যে বাড়িতে গিয়ে দু একবার সেই পড়া পড়লেই মনে থেকে যেত। তাই পরীক্ষার সময় অত চাপ ও ছিলনা।
কোচিং ক্লাসের জন্ম তখনও আমাদের কাছে অজানা। মনে পড়ছে , ক্লাস টেনে থাকাকালীন আমাদের এক সহপাঠিনীকে পদার্থবিদ্যার মনোয়ার আলি স্যর খুব উদ্বিগ্ন হয়ে ডেকে বলেছিলেন “বলতো মা! আমার পড়া কি তুমি বুঝতে পারছ না? তা হলে বাড়িতে অন্য শিক্ষকের কাছে পড়তে হচ্ছে কেন?” ! এই দায়বদ্ধতার শিক্ষা এখনও ভুলতে পারিনি।
কোহিনূর আপা কেমিস্ট্রি পড়াতেন কি সুন্দর করে। ডাক্তার স্যর জীবনবিজ্ঞান, পণ্ডিত স্যর বাংলা, নাজমা আপা ইংরেজি ... সবাই কি সুন্দর পড়াতেন। এত বছর পরেও তাঁদের চোখ বুজলেই স্পষ্ট দেখতে পাই।
আজকাল... এই বিশাল যোগাযোগ ব্যবস্থার দৌলতে পৃথিবী হাতের মুঠোয়! আমাদের নতুন প্রজন্ম কর্ম জগতে এক এক করে প্রবেশ করছে... ভয় হয় ঠিকঠাক থাকবে তো সব! এত ইঁদুর দৌড় আর এত মুখোশের ছড়াছড়ি চারিদিকে ... দায়বদ্ধতার কোনও মূল্যই থাকে না শেষে!
তবুও ফল্গুধারার মত একটা চোরাস্রোত বয়ে যায় অবিরাম ... সবাই ভাল থাকুক... চেতনায় থাকুক। অনিষ্ট না হয় কারো! ঈশ্বর মঙ্গলময়... তিনিই সব ঠিক করে দেবেন।
০৫।০৫।২০১৪
সোমবার, কোলকাতা।





No comments:
Post a Comment