অনেকেই বলেন
কেন আমি পুরনো দিনের কথা এত মনে করি! আরে যতদিন বেঁচে আছি অতীত আর বর্তমান নিয়েই তো বাঁচা! অতীত পেড়িয়েই তো
বর্তমানে দাঁড়িয়ে থাকা। ভবিষ্যতে কি হবে আমরা কেউ কি তা বলতে পারি! না কি
ভবিষ্যতের ওপর আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ আছে!
এই যে রোজ
সকালে নাকে মুখে গুঁজে যে যার কর্মক্ষেত্রে বেড়িয়ে পড়ছি তারা কি কেউ নিশ্চিত হতে
পারি কি - যে বাড়িতে ফিরবোই? তবে হ্যাঁ, একটা শৃঙ্খলার মধ্যে জীবন যাপন করলে সবারই
সুবিধা কাজ কর্ম করতে। সেই কারনেই কিছু কিছু নিয়ম কানুন ধর্ম এসবের উৎপত্তি। ধর্ম
মানুষকে সুশৃঙ্খল হতে সাহায্য করে। সব ধর্মই মানবিকতার পক্ষে – গোঁড়ামির নয়। মানুষ
মানুষের জন্য সহানুভূতিশীল থাকবে... বিপদে
পাশে দাঁড়াবে – এটাই তো কাম্য । সবাই আমরা সেটা বুঝি অথচ মাঝে মাঝে মাথার পোকাগুলো
কিলবিল করে অশুভ বুদ্ধিগুলির সাথে আঁতাত করে। তার থেকেই যত গণ্ডগোল আর বিপত্তি!
ভাইয়ে ভাইয়ে
বিবাদ... বন্ধুকে ছুরি মারা... বৃদ্ধ বাবা-মাকে গলগ্রহ ভাবা অথবা পরিত্যক্ত করা...
রাজনীতি ... চাণক্য নীতি ... কত কিছুর আবির্ভাব ঘটে। সবাই ই বুঝি যে একদিন সব ছেড়ে
চলে যেতে হবে তবুও ভোগের আকাঙ্ক্ষা কমে না। মুখে বলি ‘ভাল থাকো’ আর মনে মনে বলি
‘আমার চেয়ে বেশী ভাল থেকো না’! সেই যে একটা প্রচলিত বানী আছে না ‘ পরের ছেলে
পরমানন্দ/ যত ভোগে যায় তত আনন্দ’!
আসলে আমরা
কেউই সৎ নই! বিপদে না পড়লে নিজের ব্যবহারে
লাগাম টানি না! যতক্ষণ পারি গা বাঁচিয়ে চলি। নিজের ঘরে আগুন না লাগলে চেঁচাই না!
সমাজের দায় নিতে চাই না। না হলে একাবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে কুসংস্কারকেই প্রশ্রয়
দিই! বাচ্চাদের স্বার্থপর হতে শেখাই স্বার্থ ত্যাগ করা তো বোকামির নামান্তর। আমি,
সে আর আমাদের একমাত্র সন্তান এই নিয়ে পরিবার। বাবা মা বাইরে সন্তান হয় ক্রেসে নয়
আয়া বা দিদিমার কাছে [ঠাকুমা নয়!]। কি শেখাচ্ছি আমরা সমাজকে? দায় তো আমাদের নিতেই
হবে!
একবার লোকাল
ট্রেনে যাতায়ত করার সময় দুই বন্ধুর কথোপকথন কানে এসেছিল। প্রথমজন দ্বিতীয় জনকে তার
মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করেছিলো। দ্বিতীয়জন দু এক কথার পর যা বলেছিল তা এখনও আমার কানে
বাজে। সে বলেছিল ‘ মা কে তো বউ এসে তাড়াবে’! জানিনা তার মা কেমন ছিলেন ছেলের বিয়ের
পর!
বৃন্দাবনে,
কাশীতে কত পরিত্যক্ত মায়েরা ধুঁকছেন। আমরা কি পারিনা একটু সচেতন হতে? বুড়ো বাবা মা
তো আমাদের কত কষ্ট করে লালন করেছেন... আমরাও করছি আমাদের সন্তানদের। তবে কেন এত
অবহেলা। আরেকটা ঘটনা ব্যক্ত করি। সল্টলেক-উল্টোডাঙ্গার কাছে হাডকোর মোড়ে এক বৃদ্ধ লোককে কুণ্ঠা ভরে
হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতাম ভিক্ষা করার জন্য। বাস থেকে দেখতাম। মুখে কিছুই
বলতেন না বা কাউকে বিরক্ত করতেন না। বোঝাই যায় পেটের দায়ে পথে বেরিয়েছেন। পরে
জেনেছিলাম, সল্টলেকেই ওনার বাড়ি। ছেলেরা দেখেনা তাই ভিক্ষা। কিছুই কি করা যায়
এনাদের জন্য?
সবাই তো
সুস্থ হয়ে জন্মায় না। কেউ কেউ আংশিক পঙ্গু
, বিকলাঙ্গ বা মানসিক ভাবে অসুস্থ। সমাজ যেন এদের ব্রাত্য করার জন্যই মুখিয়ে থাকে।
তাঁদের বাবা মায়েদের কষ্ট কি আমরা কেউ অনুভব করি? আমাদের সবারই এমন পরিবারের সাথে
পরিচয় ঘটেছে! তারা সব সময় ভয়ে কাঁটা হয়ে
থাকেন যে তাঁদের অবর্তমানে সেই সন্তানের পরিণতির কথা ভেবে।
০৬.০৫.১৪
মঙ্গলবার,
কোলকাতা
স্বাতী বিশ্বাস



No comments:
Post a Comment